মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন
প্রিতম দাস,শাল্লা প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শাল্লায় ভান্ডাবিল হাওর উপ প্রকল্পের ১৯নং পিআইসির কমিটিতে দেবল তালুকদার নামের এক কৃষকের স্বাক্ষর জাল করে তাকে সদস্যপদে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে দেবল তালুকদারের স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই ভিডিওতে দেবল তালুকদার বলেন পিআইসির আমি কোনো কিচ্ছু জানিনা! পাবেল আমারে কইছে তোমার আইডি কার্ড দেও আর একটা ছবি দেও, বাড়ির পর্চাও দেও। আমি কইছি কিতারলাগি? তখন পাবেল আমারে কইছে তোমার একটা লাভ অইব। পরে মাঘ মাসে আবার আমারে ফোন দিছে। ফোন দিয়া কইতাছে দেবলদা তুমি একটু ঘুঙ্গিয়ারগাঁও আইতইবায়। আমি কইছি আমার ইতার সময় নাই। পরে আমারে কইছে দেবলদা তোমার আওন লাগত না, কাম সাইরালাইছি!
অন্যদিকে পিআইসিতে কোনো স্বাক্ষর দিছেন কিনা-জনৈক ব্যক্তির এমন প্রশ্নে দেবল তালুকদার উত্তরে বলেন আমি কোনো পিআইসিতে স্বাক্ষর দেই নাই! ইতা সব ভুয়া বলেও জানান তিনি। দেবল তালুকদার উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত সুদীন তালুকদারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৬এপ্রিল) এবিষয়ে মুঠোফোনে ১৯ নং পিআইসির সদস্য সচিব পাবেল আহমেদ বলেন দেবল তো একথা বলে নাই! ভুল বলতেছেন আপনি। এসময় কৌশলে কথা এড়িয়ে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয় পাবেল। তবে ১৯নং পিআইসির সদস্য দেবল তালুকদার মুঠোফোনে বলেন আমি কোনো সময় স্বাক্ষর দেই নাই। কোনো অভিযোগ করবেন কিনা জানতে চাইলে-তিনি বলেন আমি গরিব মানুষ। এনিয়ে আমার কোনো সমস্যা হলে অভিযোগ করবেন বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে অন্যান্য বারের মতই ফোন রিসিভ করেননি তিনি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন কারো স্বাক্ষর জাল করা নিঃসন্দেহে অপরাধ। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
জানা যায়, পাবেল আহমদ বেড়ে উঠেছে উপজেলার কুখ্যাত চোরা পল্লী নারকিলা গ্রামে। যে চোরা পল্লীর উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল শাল্লা উপজেলাবাসী। মাদক ব্যাবসা, গোরুচুরি থেকে শুরু করে টাকা-পয়সা, সোনার গহনা এমনকি ঘরের আসবাবপত্র চুরি করে নিয়ে যেত তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সাবেক দিরাই-শাল্লার সাংসদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী উপজেলার ৫টি চোরের গ্রামের অত্যাচারের বিষয়টি জাতীয় সংসদে পর্যন্ত তুলে ধরেন। পরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে পুরো চোরাপল্লীটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ছারখার করে দেন। এরপর থেকে উপজেলায় চুরি কিছুটা কমে আসে। সেই চোরাপল্লীতে বেড়ে উঠেছে পাবেল আহমেদ। তার পিতার নাম আব্দুর রহমান। আব্দুর রহমান একজন চোরের সর্দার সে নিজেও এই চৌর্যবৃত্তি পেশায় যুক্ত ছিল। এলাকাবাসী আরও জানিয়েছেন আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে থানায়।
এই বছর চোরাপল্লী থেকে বেড়ে উঠা পাবেল আহমেদের নামে পিআইসি দেয়ায় উপজেলাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। তাও আবার পাবেল আহমদ সাধারণ এক কৃষকের স্বাক্ষর জাল করে পিআইসির নেওয়ায় সমালোচনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ভান্ডাবিল হাওর উপ প্রকল্পের আওতায় ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য ওই পিআইসির ৮৯০ মিটারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৫লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আছানপুর গ্রামের পূর্বদিকে এই পিআইসি দেয়া হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন এখানে বাঁধের নামে মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণের জন্যই এই পিআইসি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে উপজেলার ৬টি হাওরে বোরো ফসলরক্ষায় ১০৬ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারে ১৯৭টি পিআইসির বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৪০কোটি টাকা।